ঢাকা , সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​ভুয়া পরোয়ানায় হয়রানি বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ০৪:১০:৫৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৪-০৯-২০২৬ ০৫:০১:০০ অপরাহ্ন
​ভুয়া পরোয়ানায় হয়রানি বন্ধের নির্দেশ হাইকোর্টের ​ফাইল ছবি
ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে কোনো পরোয়ানা বাস্তবায়নের আগে পুলিশের কেন্দ্রীয় ডেটা ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম থেকে তা যাচাই করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ এ মাওলা সোহেলের বেঞ্চ এক রিট আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেয়।

আদালতের ওই নির্দেশনা বাস্তবায়নে বিষয়টি পরিপত্র আকারে জারি করে তা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

রায়ে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়ে বলা হয়েছে, যেকোনো নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে। বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) অনুলিপি এবং আইনজীবীর পরিচয়পত্র মামলার সঙ্গে সংযুক্ত রাখা নিশ্চিত করতে হবে। জেলা জজ, মহানগর জজ, সিজিএম ও সিএমএমসহ সব নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাছে নির্দেশনা পাঠাতে হবে।

আদালত বলেছে, যেকোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধান অনুসরণ করতে হবে; অন্যথায় আইনের ব্যত্যয় হবে।

ভুয়া পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার হলে একজন নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়। যা রোধ করা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব বলেও রায়ে বলা হয়েছে।

রায়ে বলা হয়, আদালতের মাধ্যমে মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সেজন্য মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত প্রয়োজন। না হলে নাগরিকের যে ক্ষতি হয়, তা পূরণ করা সম্ভব নয়।

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানির বিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে রিট আবেদনটি করেন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি)।

মামলায় স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, র‌্যাবের ডিজি, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও গুলশান থানার ওসিসহ মোট আটজনকে বিবাদী করা হয়।

শুনানি শেষে হাই কোর্ট ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি রুল জারি করেন এবং আরিফ নিয়াজী নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে গুলশান থানার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

রিটকারী এইচআরপিবির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন।

তিনি বলেন, ২০১২ সালে আরিফ নিয়াজীকে তার গুলশানের বাসা থেকে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে করা মামলা ও পরোয়ানা দুটিই ভুয়া।

তারপর রিট আবেদন হলে আদালতের নির্দেশে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও মামলা ও পরোয়ানা যে ভুয়া ছিল তা স্পষ্ট করা হয়। পরে উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত সোমবার রায় দিল।

বাংলা স্কুপ/প্রতিবেদক/এইচবি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ